Calcutta Television Network

মশা সদৃশ ড্রোন নজরদারি ও যুদ্ধক্ষেত্রে -

ড্রোন প্রযুক্তির অগ্রগতি এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এখন আর ড্রোন মানেই বড় আকারের উড়ন্ত যন্ত্র নয়। বরং বর্তমান বিশ্বের গবেষকরা এমন ক্ষুদ্রাকৃতির, মশা বা পোকার মতো দেখতে ড্রোন তৈরি করছেন, যেগুলো বিশেষভাবে নজরদারি, সামরিক অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এমনকি পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

সম্প্রতি চীনের হুনান প্রদেশে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজি (NUDT)’ এমনই একটি মশা সদৃশ ড্রোন তৈরি করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ড্রোনে আধুনিক সেন্সর রয়েছে, যা গোপন সামরিক অভিযানের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। লিয়াং হেশিয়াং, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, জানান, তার হাতে থাকা রোবটটি দেখতে একদম মশার মতো এবং এটি তথ্য সংগ্রহ ও আক্রমণের সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র ড্রোনের চাহিদা:

ড্রোন প্রযুক্তিতে এখন বাণিজ্যিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রাকৃতির ডিভাইসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা অনুসরণ করেই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মাইক্রোরোবোটিক্স ল্যাব তৈরি করেছে ‘রোবোবি’, যা দেখতে অনেকটা ক্রেন ফ্লাই নামের একটি পোকামাকড়ের মতো। এটি শুধু উড়তে ও নামতেই পারে না, বরং ভবিষ্যতে এটি কৃত্রিম পরাগায়ণ, দুর্যোগ পরিদর্শন এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।

গবেষক অ্যালিসা হার্নান্দেজ বলেন, ‘‘জীববিজ্ঞান ও রোবোটিক্সের সংযোগ খোঁজার জন্য রোবোবি একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম।’’

সামরিক পর্যবেক্ষণে ক্ষুদ্র ড্রোন:

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই নরওয়ে থেকে সংগ্রহ করা ‘ব্ল্যাক হর্নেট’ ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ড্রোনটি এতটাই ছোট যে পকেটেও বহন করা যায় এবং এতে রয়েছে থার্মাল ইমেজিং ও ক্যামেরা। এটি মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীকে গোপনে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে।

এছাড়াও, মার্কিন প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা DARPA ২০০৬ সাল থেকেই হাইব্রিড সাইবর্গ পোকা-ড্রোন তৈরির উপর কাজ করছে। প্রকৃত পোকামাকড়ের দেহে ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্র বসিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেতে তাদের নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নজরদারি প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁত করে তুলবে।

শেয়ার করুন