বুক ঢেকে নয়, জ্ঞান উন্মোচন করুন। মাতৃত্ব মানেই লজ্জা নয়, বরং এক অলৌকিক শক্তির প্রকাশ। আজও বহু মা, বিশেষ করে নতুন মায়েরা, বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে সংকোচ, দ্বিধা এবং সামাজিক চাপে ভোগেন। কে কী বলবে, আশেপাশে কেউ আছে কিনা, শরীরের অংশ দেখা যাচ্ছে কিনা — এসব ভেবে বাচ্চাকে প্রয়োজনীয় দুধ দিতে দেরি হয়ে যায় অনেক সময়। অথচ এটি শুধু শিশুর নয়, মায়ের নিজের শরীরের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী।
প্রথম ৬ মাস একটা বাচ্চা তার মায়ের দুধই খায়, এটাই তার জন্য যথেষ্ট। মায়ের দুধই শিশুর ইমিউন সিস্টেম গড়ে তোলে। এই দুধ শিশুকে অ্যালার্জি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা করে। মায়ের শরীরে হরমোন ব্যালান্স বজায় রাখে, ওজন কমাতে সাহায্য করে।
জন্মের পর প্রথম যে ঘন হলুদ দুধ বের হয় তাকে বলে Colostrum এটিকে বলা হয় baby’s first vaccine। এতে থাকে অ্যান্টিবডি, প্রোটিন, এনজাইম, গুড ব্যাকটেরিয়া থাকে।
দুধের গঠন বদলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। এতে থাকে Foremilk (জল ও মিনারেল), Hindmilk (চর্বি ও শক্তি)।
অনেকের মধ্যে এই ব্রেস্টফিডিং নিয়ে অনেক মিথ আছে। যেমন এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলা। বাজার, হাসপাতাল, পার্কে মায়েদের জন্য আলাদা ফিডিং স্পেস থাকে না। ‘বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে শরীর দেখানো হচ্ছে’ — এই সামাজিক লজ্জা হয়, এর ফলে মায়েরা লঝ্জায় প্রকাশ্যে বাচ্চাদের খাওয়াতে পারে না। এরফলে তারা কম দুধ পায় আর অপুষ্টির শিকার হয়। আর তারা বাইরের দুধে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। এরফলে মায়ের স্তনে ব্যাথা হয়, ফুলে যায় এবং ইনফেকশন হয়। মায়ের শরীরে হরমোন ইমব্যালেন্স হয়।
গর্ভাবস্থাতেই স্তন্যপান সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। পরিবারের সহযোগিতা ও উৎসাহ দরকার। মায়েদের এই সময়ে যথেষ্ট বিশ্রাম দরকার, তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত।
ডা. রূপসা সেনগুপ্ত (গাইনোকলজিস্ট ও ল্যাকটেশন স্পেশালিস্ট) বলছেন, 'স্তন্যপান নিয়ে লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। মা যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, শিশুর উন্নয়ন বাধা পাবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসন—তিন স্তরে সমর্থন দরকার।' একটি মা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন—এটি কোনও লজ্জার বিষয় নয়, এটি জীবনের শ্রেষ্ঠতম দান।