Calcutta Television Network

ফিরে আসুক শৈশব! বাচ্চাদের জন্য ডিজিটাল ডিটক্সে গড়ে উঠুক সুস্থ ভবিষ্যৎ...

শিশুরা এখন খেলে না, স্ক্রিনে গেম খেলে। তারা আঁকে না, বরং ইউটিউবে কার্টুন দেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই দৃশ্য এখন শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র। কিন্তু আপনি কি জানেন, শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছে এই অতিরিক্ত স্ক্রিনিং টাইম? 

স্ক্রিনিং টাইমের সবথেকে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব শিশুর উপর। এই স্ক্রিনিং টাইমের জন্য বাচ্চাদের চোখের সমস্যা (দূরদৃষ্টি, শুষ্কতা, ব্যথা) সৃষ্টি হয়, এছাড়াও মনোযোগে ঘাটতি ঘটে, স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা হয়। এছাড়াও তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে আর রাগ হয়। এছাড়াও তাদের মধ্যে আচরণগত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। বেশি ফোন দেখার ফলে তাদের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। সকলের সঙ্গে মিশতে পারে না। এছাড়াও তাদের শরীরে অলসতা দেখা দেয়, তাদের ওজন হ্রাস হয়। 

বাচ্চারা কতক্ষণ ফোন দেখবে তার সময় নির্ধারণ করুন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা তাদের হাতে ফোন দিন তার বেশি ফোন তাদের হাতে দেবেন না। খাবারের সময় বা পড়ার সময় একেবারেই নয়। ফোন নিয়ে বসতে গেলে তাদের হাতে কাগজ, রঙ পেনসিল দিন। তাদের পুতুল বা খেলনা দিয়ে গল্প বানাতে উৎসাহ দিন। এছাড়াও তাদের কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করতে বলুন আর তাদের ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দিন, এই যেমন ধরুন- বোতলে জল ভরা, কোথাও একটা জল ঢালা, নিজের জামা নিজে গুছানো ইত্যাদি। 

বাচ্চাদের সামনে নিজেও একটু কম ফোন ঘাঁটুন। তারা কিন্তু আপনাদের থেকেই সব শেখে। আপনি যদি তাদের সামনে বসে ফোন ঘাঁটেন, তাহলে দেখবেন আপনার দেখাদেখি আপনার বাড়ির ছোট সদস্যটিও ফোন ঘাঁটবে। খেয়াল রাখবেন রাতে শোবার আগে যেন তারা হাতে ফোন না নেয়। তাদের ঠাকুমার ঝুলি বা গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করান। এছাড়াও তাদের ছোট ছোট ডিটেক্টিভের বই কিনে দিন, তা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে সাহায্যে করবে। 

আপনার ঘরের এমন একটা জায়গা নির্ধারণ করুন, যেখানে বাচ্চারা কেন আপনি নিজেও ফোন নিয়ে ঢুকবেন না। নির্দিষ্ট জায়গাটিকে 'No Gadget Zone' করে ফেলুন। এই যেমন ধরুন- শোওয়ার ঘর, ডাইনিং টেবিল এবং পড়ার জায়গায় গ্যাজেট নিষিদ্ধ করুন। ডিটক্স মানেই কি সবকিছু বন্ধ? না। প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং সঠিকভাবে ব্যবহার শেখানোই হল আসল চাবিকাঠি। বাচ্চাকে শেখান—কোন অ্যাপ শেখার জন্য, কোনটা শুধু বিনোদনের, কোনটা একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত। বাচ্চারা যখন স্ক্রিন থেকে দূরে থাকে, তখন তারা বেশি কল্পনা করতে পারে, সামাজিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে। তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখে। 

শৈশব একটাই, সেটা যেন ভার্চুয়াল নয়—বাস্তব হয়। খেলায় ভরা, গল্পে বোনা, মাটির গন্ধে মেশানো শৈশবই ভবিষ্যতের সুস্থ মানুষ গড়তে পারে। তাই আজ থেকেই শুরু হোক ‘ডিজিটাল ডিটক্স ফর কিডস’—যেখানে শিশুরা মানুষ হবার জন্য গ্যাজেট নয়, জীবন বেছে নেয়।

শেয়ার করুন