পুজো মানেই নতুন জামা, সাজগোজ আর আত্মপ্রকাশের সময়। তবে সাজসজ্জা তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন ত্বক থাকে উজ্জ্বল, কোমল আর প্রাণবন্ত। পুজোর অন্তত ১০ দিন আগে থেকেই ত্বকের যত্ন শুরু করলে মেকআপ ছাড়াও আপনি হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া সুন্দরী। তাই এবার পুজোর আগে নয়, আগে থেকেই গ্লোয়িং স্কিনের পথে হাঁটুন এই ‘১০ দিনের স্কিন কেয়ার প্ল্যান’-এ।
১. প্রতিদিন সকালে ও রাতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক থেকে ধুলোবালি, তেল ও ময়লা দূর হয়ে ত্বক শ্বাস নিতে পারে।
২. সপ্তাহে ২ দিন ঘরোয়া স্ক্রাবার (বেসন + দুধ বা ওটস + মধু) ব্যবহার করুন। মৃত কোষ দূর হলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
৩. প্রাকৃতিক রোজ ওয়াটার বা গোলাপ জল ব্যবহার করুন ফেসওয়াশের পর। এটি ত্বকের পোরস টাইট করে ও সতেজতা দেয়।
৪. স্কিন টাইপ অনুযায়ী অয়েল ফ্রি অথবা হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বক নরম ও সুস্থ থাকে, গ্লো বাড়ে।
৫. রোদ থাকুক বা না থাকুক, দিনে অন্তত একবার SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এতে সানট্যান, পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ রোধ হয়।
৬. এছাড়াও ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যাবহার করতে পারেন। তার জন্য দই আর মধু মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করুন। এই মিশ্রণের ফলে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও উজ্জ্বল। ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও বেসন, হলুদ, দুধ দিয়ে একটা প্যাক তৈরি করতে পারেন, এতে স্কিন টোন সমান হয় ও দাগছোপ দূর হয়। শসা ও মুলতানি মাটি অয়েলি স্কিনের জন্য উপযুক্ত। মুখ থাকে ফ্রেশ ও ঠান্ডা।
৭. ত্বক ভিতর থেকে ভালো রাখার জন্য খেতে হবে পুষ্টিকর খাবার। যেমন- সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম আর অবশ্যই বাদ দিন ভাজা খাবার, আর অতিরিক্ত চিনি। এবং প্রচুর পরিমাণে জল খান (৮-১০ গ্লাস/দিন)।
৮. প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ও মনের শান্তি ত্বকে ছাপ ফেলে। স্ট্রেস হরমোন ত্বককে নিস্তেজ করে, ঘুম ত্বকের কোষ মেরামত করে।
৯. পুজোর আগে থেকেই আইব্রো শেপ করুন। ঠোঁট স্ক্রাব ও লিপ বাম ব্যবহার করুন। পুজোর ৩ দিন আগে হালকা ফেসিয়াল বা ক্লিন আপ করতে পারেন। নিজের স্কিন বুঝে মেকআপ করুন।
ত্বকের পরিচর্চা কেবল রূপচর্চা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও আত্মভালবাসার প্রকাশ। এই ১০ দিনের সহজ রুটিন মেনে চললে পুজোর দিন আপনি নিজেই বুঝে যাবেন—আপনার স্কিন-গ্লো মেকআপের থেকেও বেশি কমপ্লিমেন্ট পাবে!