আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল কিডনি। প্রতিদিন এটি রক্ত থেকে টক্সিন ছেঁকে বের করে দেয়, তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মিনারেল লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল হল পটাশিয়াম।
পটাশিয়াম স্নায়ুর কার্যকারিতা, হৃদস্পন্দনের স্থিতি এবং পেশীর কাজের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে বা ব্যর্থ হয়।
সাধারণ অবস্থায় কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেয়। কিন্তু কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হলে শরীরের সকল প্রকার কার্যকলাপ থেমে যায়।
এর ফলে কী হয়?
১) রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়,
২) তৈরি হয় হাইপারক্যালেমিয়া,
৩) ঝুঁকি বাড়ে হার্ট অ্যাটাক ও মৃত্যুর।
যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ফল হল- কলা (Banana), নারকেল (Coconut)।
একটি মাঝারি কলায় থাকে প্রায় ৩৭৫-৪৮৭ মি.গ্রা পটাশিয়াম। অন্যদিকে নারকেলের জল ও শাঁসে রয়েছে বিপুল পটাশিয়াম। এই দুই ফল একসঙ্গে খেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হতে পারে বিপজ্জনক জটিলতা।
এইমস-এর ডা. পারভেজ জানাচ্ছেন, 'কিডনি যখন পটাশিয়াম বের করতে পারে না, তখন রক্তে এর পরিমাণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। এতে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।'
এর জন্য কম পটাশিয়ামযুক্ত ফল বেছে নিন। যেমন- আপেল, আঙুর, নাশপাতি, স্ট্রবেরি, আনারস। ঐর এড়িয়ে চলুন- কলা, নারকেল।
বিপদ থেকে বাঁচতে নিয়মিত ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। কিডনির অসুখে নিজের মতো করে ডায়েট চার্ট বানাবেন না। শরীরে পরিবর্তন অনুভব করলে দ্রুত পরীক্ষা করান।
কিডনির রোগ অদৃশ্য শত্রুর মতো—সময়মতো বুঝতে না পারলে মারাত্মক হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় সচেতন হোন। কলা ও নারকেল একসঙ্গে নয়, আলাদাও নয়। আপনার এক মুহূর্তের অসতর্কতা হতে পারে জীবনের জন্য বিপদ।