Calcutta Television Network

চুল নিয়ে চুলোচুলি? এবার বলুন ‘STOP’!

'চুল পড়ছে', 'গোছা গোছা উঠছে', 'সিঁথি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে'—এই অভিযোগ যেন এখন ঘরে ঘরে। চুল পড়া আজকের দিনে অতি সাধারণ, অথচ আতঙ্কজনক এক সমস্যা। এর পেছনে আছে নানা কারণ—জেনেটিক, হরমোন, পলিউশন, স্ট্রেস, ডায়েট, ঘুমের অভাব, এমনকি স্ক্রিন টাইমও। কিন্তু একটু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললেই এই যুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব!

চুল পড়া বন্ধ করতে নিয়মিত তেল মালিশ (Oil Massage) খুবই জরুরি। সপ্তাহে অন্তত ২ বার নারকেল, অলিভ বা আমন্ড অয়েলে মাথায় হালকা করে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, চুলের গোড়া মজবুত হয়। 

খুব গরম জলে মাথা ধোবেন না, হালকা কুসুম গরম জল দিয়ে মাথা ধুতে হবে। অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন। সালফেট ও প্যারাবেন ফ্রি শ্যাম্পু বেছে নিন।

চুলের জন্য দরকার প্রোটিন, আয়রন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বায়োটিন ও জিঙ্ক। বিনস, ডিম, বাদাম, দুধ, দই, সবুজ শাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন। 

প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে চুল পড়া স্বাভাবিক। ধ্যান, বই পড়া, গান শুনে নিজেকে শান্ত রাখুন। স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) চুলের গোড়ায় ক্ষতি করে। 

সপ্তাহে একদিন মেথি, আমলা, দই, অ্যালোভেরা, মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। প্রাকৃতিক উপাদান চুলে পুষ্টি দেয় ও চুল পড়া কমায়।

ভেজা অবস্থায় জোরে চুল আঁচড়াবেন না। হিট স্টাইলিং (সরাসরি আয়রন বা ব্লো-ড্রাই) কম করুন। চুলের স্বাভাবিক গঠন রক্ষা করে চলুন। 

চুলের গোড়ায় ধুলো, ঘাম, তেল জমে গিয়ে চুল একেবারে ড্যামেজ হয়, এটাও কিন্তু চুল পড়ার কারণ হতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ বার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখুন। তা বলে রোজ আবার শ্যাম্পু করতে যাবেন না, রোজ করলে চুল উঠে যাবার সম্ভাবনা বাড়ে। চুলে রং, স্ট্রেইটনিং, পার্মের মতো হার্ড কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট বেশি না করাই ভালো। এছাড়াও ভেজা চুল একেবারে আঁচড়ানো উচিত না, ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল উঠে যাবার সম্ভাবনা হয়। জানেন কি রোদে চুল নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে! যারা ভাবেন 'আমার কিছুই হবে না, সান্সস্ক্রিন মাখি ট্যানও পড়বে না।' কিন্তু জানেন কি এই রোদের কারণেই চুল হয়ে যেতে পারে একেবারে পাতলা! এমনকি সব চুল ঝড়েও যেতে পারে। অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই বাস্তব। এমনকি টাইট চুল করে বাঁধা (হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়)চুলের কারণেও সব চুল উঠে যেতে পারে। নিজের মতো করে অনলাইন দেখে সিরাম কিনছেন আর মাখছেন নাকি! এতেও কিন্তু শিয়রে বিপদ অপেক্ষা করছে। এমন বাজার চলতি প্রোডাক্ট মেখেও হিতে বিপরীত হতে পারে। 

চুল পড়াকে সাধারণ ঘটনা বলে মেনে নেবেন না, যদি দেখেন প্রতিদিন ১০০ টির বেশি চুল পড়ছে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যান, আর তাঁর পরামর্শ নিন। যদি দেখেন মাথার নির্দিষ্ট অংশ ক্রমাগত পাতলা হচ্ছে, তাহলেও ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত এবং অবিলম্বে তাঁর পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া বা মাখা উচিত। খেয়াল রাখবেন চুল ছাড়াও স্ক্যাল্পে চুলকানি বা দাগ দেখা যাচ্ছে কি! যদি দেখা যায়, তাহলে আগে থেকে সাবধান হন। এমনকি পরিবারে বংশগত হেয়ার লসের ইতিহাস যদি থেকে থাকে তাহলে চুলের ব্যাপারে আগা থেকে যত্নবান হন। এক্ষেত্রে স্ক্যাল্প এনালাইসিস, থাইরয়েড বা আয়রন লেভেল টেস্ট প্রয়োজন হতে পারে।

চুল পড়া মানেই সব শেষ নয়। বরং এটি আপনার শরীরের ভেতরের সতর্কবার্তা। চুলের যত্ন মানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়—এটি আপনার নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার শুরু। চুল পড়া বন্ধ করতে এখন থেকেই চালু করুন এই সাতটি সহজ অভ্যাস। চুল নিয়ে চুলোচুলি বন্ধ করুন, বরং নিজের চুলের প্রেমে পড়ুন!

শেয়ার করুন