আমরা সবাই জানি পৃথিবীর শুরু ছিল, তাই একদিন এর শেষও হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল—কখন, কীভাবে, আর কেন? এই প্রশ্ন ঘিরে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য গল্প, ধর্মীয় বিশ্বাস, এবং ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী। প্রলয়ের কথা শুধু বাইবেল বা কোরানেই নেই। হিন্দু পুরাণেও আছে—কলিযুগ শেষে ধ্বংস হবে মানবসভ্যতা, আসবে কল্কি অবতার। অন্যদিকে, আধুনিক বিশ্বে আলোচিত নাম নস্ট্রাডামাস এবং বাবা ভাঙ্গা। এঁদের ভবিষ্যদ্বাণী শোনার পর অনেকেই শিউরে ওঠেন।
বুলগেরিয়ার অন্ধ জ্যোতিষী বাবা ভাঙ্গা বলেছিলেন, 'পৃথিবী থাকবে, কিন্তু মানুষের পৃথিবী থাকবে না।' তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সম্ভাবনা—২০২৫-এর পর শুরু হবে অভিশপ্ত সময়, যেখানে থাকবে যুদ্ধ, মহামারি, মহাজাগতিক সংঘর্ষ, এবং AI-এর উত্থান।
অন্যদিকে, নস্ট্রাডামাস তাঁর চতুষ্পদীতে বলেছেন, 'আগুনে জ্বলবে আকাশ, রক্তে রঞ্জিত হবে সমুদ্র।' যা অনেকেই পরমাণু যুদ্ধ বা গ্রহাণুর আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
পৃথিবী ধ্বংস হতে পারে বেশ কয়েকটা কারণের জন্য। যেমন-
জলবায়ু বিপর্যয় – বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে ডুবে যেতে পারে বহু শহর।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা – বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত ভয়ঙ্কর সংকেত দিচ্ছে।
মহাকাশ থেকে আঘাত – বিশাল গ্রহাণু বা মহাজাগতিক বিকিরণ পৃথিবীকে ধ্বংস করতে পারে।
নতুন ভাইরাস ও জৈব যুদ্ধ – কোভিডের পর বিজ্ঞানীরা আরও ভয়ঙ্কর ভাইরাসের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখল – প্রযুক্তি কি একদিন মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে? এই প্রশ্ন এখন বাস্তব আলোচনায়।
ধর্মীয় বিশ্বাস বা ভবিষ্যদ্বাণী আলাদা জায়গায়, কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গ্লোবাল ওয়ার্মিং দ্রুত পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাজাগতিক বিপর্যয় হতে পারে। তাহলে কি আমরা সত্যিই সেই প্রলয়ের দিকে এগোচ্ছি? নাকি এটি কেবল ভয় পাওয়ার গল্প? হয়তো প্রলয় আগামীকাল হবে না। কিন্তু আমরা যদি প্রকৃতি ও প্রযুক্তির ভারসাম্য না রক্ষা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী থাকবে না—প্রলয় তখন আর ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাস্তবতা হবে।