Calcutta Television Network

প্রিন্স দ্বারকানাথের শত ব্যবসার একটা ছিল পতিতালয়

একজন মানুষ যাকে নিয়ে রচনা করা যায় এক মহাকাব্য। ব্রিটিশদের চোখে চোখ রেখে ব্যবসার পাঠ শিখিয়েছিলেন বাঙালীকে। আবার শত সমালোচনার তীরেও বিদ্ধ হয়েছেন বারবার। ঠাকুর পরিবারের যে ব্যক্তিটি প্রথমবারের মত যশোর ছেড়ে কলকাতায় আসেন তার নাম পঞ্চানন ঠাকুর। রাজা আদিশূর কনৌজ থেকে কিছু ব্রাহ্মণকে আমন্ত্রণ জানান, তাদের মধ্যে পীরালি ব্রাহ্মণ ছিলেন ঠাকুর পরিবার । পদবী ছিল কুশারি। পরবর্তী কালে গোবিন্দপুর গ্রামের মৎস্যজীবী মানুষেরা তাঁদের ঠাকুর উপাধি দিয়েছিল। এই ঠাকুর পরিবারের নীলমণির পুত্র রামলোচন অপুত্রক ছিলেন তিনি তাঁর ভ্রাতা রামমণি ঠাকুরের পুত্র দ্বারকানাথ কে দত্তক নেন।


এই দ্বারকানাথ ঠাকুর নিজের ভবিষ্যৎ লেখেন অন্য ভাবে। তাঁকে প্রিন্স উপাধি দেওয়া হয়। জাহাজ ব্যবসা, রফতানি বাণিজ্য, বীমা, ব্যাংকিং, কয়লা খনি, নীলচাষ, শহরের গৃহায়ন এবং জমিদারি ব্যবসা যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানে সোনা ফলিয়েছেন। তাঁর ব্যবসার তদারকির জন্য তিনি কয়েকজন ইউরোপীয় ম্যানেজার নিযুক্ত করেন। বিশ্বময় ছড়িয়ে  পড়েছিল প্রিন্স দ্বারকানাথের নাম। রানী ভিক্টোরিয়া দ্বারকানাথ সম্পর্কে বলেছিলেন, ' ব্রাহ্মণ ভদ্রলোক বেশ ভালো ইংরেজি বলেন এবং তিনি একজন বুদ্ধিমান ও চমৎকার মানুষ।' এই দ্বারকানাথের আরও একটি ব্যবসা ছিল যা বর্তমানে সমালোচিত হলেও সে  যুগে কিন্তু নিন্দার ছিল না। দ্বারকানাথ ঠাকুর কলকাতা শহরের বেশ কিছু পতিতালয়ের মালিক ছিলেন। অনেকের মতে সংখ্যাটা ৪৩। 


মূলত ব্রিটিশ সৈন্যদের বিনোদনের জন্য এই পতিতালয়গুলি তৈরি হয়েছিল।  এই পতিতালয়গুলির মধ্যে সোনাগাছি ছিল অন্যতম। যা এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লী হিসেবে পরিচিত। আজ থেকে আড়াইশো-তিনশ বছর আগে কলকাতায় শুরু হয়েছিল আভিজাত্যের নতুন দিক। যার পোশাকি নাম বাবু কালচার। দামি গাড়ি, লক্ষ টাকা বাঈজির পিছনে ওড়ানো ছিল তখনকার বিত্তশালীদের অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। ফি শনিবার পতিতাদের নিয়ে গান বাজনার আসর বসত। ব্রিটিশ সেনাদের ভিতরও নারী সঙ্গের চাহিদা ছিল প্রবল। একে একে বিধবাদের ভীড় বাড়তে লাগল সোনাগাছিতে।


তবে দেহব্যবসার সঙ্গে এই সোনাগাছি নামের কোনও সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিক পিট নায়ারের তথ্য অনুসারে কলকাতা এবং সুতানটি এই দুই পরগনাতেই মুসলিম আধিক্য ছিল। তাদেরই একজন সোনাগাজী বা সোনাউল্লা শাহ চিস্তি রহমতুল্লাহ আলে। তিনি এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। তাঁর নাম অনুসারেই সোনাগাজী বা সোনাগাছির সৃষ্টি। সে সময় প্যারিসের বিখ্যাত পতিতাও সোনাগাছি এলাকায় নিজের পশার জমিয়েছিলেন। 



পতিতালয় ব্যবসা তখনকার দিনে দ্বারকানাথ ঠাকুরের অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের মতই স্বাভাবিক ছিল। তবে দ্বারকানাথের পরবর্তী ঠাকুর পরিবারের কোনও চরিত্র এই ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীতে দ্বারকানাথের এই ব্যবসার কথা উল্লেখ থাকলেও, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় এর কোনও উল্লেখ মেলেনি। তবে শত সমালোচনা সত্ত্বেও বাঙালিকে ব্যবসামুখী করার পিছনে দ্বারকানাথ ঠাকুরের ভূমিকা কখনও ভোলা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন