Calcutta Television Network

মারিয়ানা খাতে কি রয়েছে আর এক জগত !

জাপানের একটা জাহাজ যাচ্ছিল মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর উপর দিয়ে আচমকা একটা বড় ঢেউ ওঠে জাহাজের সামনে। একটু হলেই ডুবে যাচ্ছিল জাহাজটা। আশেপাশে ঢেউ বা ঝড়ের লক্ষণমাত্র নেই। হঠাৎ কিছু নাবিক দেখেন জাহাজের নীচ দিয়ে চলে যাচ্ছে একটা কালো বিরাট কিছু। চমকে ওঠে সবাই । মারিয়ানা খাতের তলায় তাহলে কি সত্যিই অস্তিত্ব রয়েছে সমুদ্র দানবের।


 এমনিতেই রহস্যে ঘেরা প্রশান্ত মহাসাগর। এরই মধ্যে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা খাত। ১১০০০ মিটার গভীর। ২৫৫০ কিমি লম্বা আর প্রায় ৭০ কিমি চওড়া। যেখানে অনায়াসে লুকিয়ে রাখা যায় সমস্ত মাউন্ট এভারেস্টকে। সাধারণত সমুদ্রের ১০০০ মিটার পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে সূর্যের আলো। সমুদ্রের এই গভীর অংশে চলের চাপ এক ভীষণ থাকে যে শক্তিশালী ইস্পাতকে ভেঙে ফেলতে পারে সোলার মত। খাতের এই অস্বাভাবিক গভীরতায়, জলের চাপে ক্যালসিয়াম দ্রবীভূত হয়ে যায় আর ক্যালসিয়াম দ্রবীভূত হলে প্রাণীদের হাড়ের গঠনও সম্ভব নয়। 


এই রহস্যময় খাত নিয়ে নাবিকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে নানান গল্পকথা। ফরাসি সাবমেরিন বাথিস্কাপ ক্রিয়েস্ত একদিন সাবমেরিন নিয়ে সার্ভে করছিলেন মারিয়ানা খাতের। হঠাৎ লক্ষ করেন সাবমেরিনের সামনে একটা ভয়ঙ্কর দানব প্রাণী। এত গভীরে প্রাণী এল কী ভাবে? প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। 


তারও কয়েক দশক পর কিছু আমেরিকার বিজ্ঞানী মারিয়ানা ট্রেঞ্চে গিয়েছিলেন গ্রম্মার চ্যালেঞ্জার নামে এক সাবমেরিন নিয়ে। তারা একটি জলের চাপ নিরোধক একটি ধাতুর গোলককে তার দিয়ে নামান। হঠাৎ তারা লক্ষ করেন একটা অমানুষিক টান গোলকটাকে গভীরের দিকে টানছে। অনেক কসরতের পর সেই গোলকটাকে উপরে তোলা হলে দেখা গেল গোলকটিকে কেউ যেন কামড়ে তুবড়ে দিয়েছে। ধাতুর গায়ে ফুটে আছে দাঁতের দাগ। বিজ্ঞানীদের গবেষণা রীতিমত চমকে দিয়েছিল। তবে কি মারিয়ানা খাতের গভীরে এখনও বেঁচে আছে মেগালোডন। সেই হাঙর, যে কিনা তিমি দিয়ে তার প্রাতঃরাস সারে। নাকি এ রহস্যময় খাতে ঘাটি গেড়েছে ভিনগ্রহের কোনও জন্তু! 


এই খাতের গভীর অংশের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ। গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিমি দূরে ইংরেজি V এর মত অংশটাই হয়তো পৃথিবীর গভীরতম বিন্দু। তবে এখনও অনাবিস্কৃতই রয়ে গিয়েছে এই অংশ যেখানে রয়েছে অন্য এ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর অংশটার নাম 'চ্যালেঞ্জার ডিপ’। গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিমি দূরে ইংরেজি V অক্ষরের মতো দেখতে এই অংশটাই না কি পৃথিবীর গভীরতম বিন্দু, যার গভীরতা ১১০০০ মিটারেরও বেশি। চ্যালেঞ্জার ২ নামে একটা জাহাজের নাবিকেরাই না কি প্রথম হদিশ পান ট্রেঞ্চের এই অংশটার। হিসেব করে দেখা গেছে সমুদ্রের নীচে ১০০০ মিটার তলদেশ পর্যন্ত সূর্যের আলো পৌঁছোতে পারে, তারপর শুধু অন্ধকার, ঘন কালো জল আর রহস্যময় আরেক জগতের ইশারা।

শেয়ার করুন