মা, প্রতিটা মানুষর জীবনে যেন এক অপরিহার্য এক ব্যক্তি। মা ছাড়া যেন জীবনটাই চলে না। আবার, এই মায়ের প্রতিই যেন সন্তানদের অধিকার ফলাতে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, আবার অনেক মায়েরা সন্তানদের ওপর রেগে গেলে বলে, 'মা যখন থাকবে না তখন বুঝবি মায়ের কী মর্ম?' যদিও মায়েরা যতই মারুক বা বকুক না কেন দিনের শেষে গিয়ে এই মা'ই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেয়। প্রসঙ্গত, বিনোদন দুনিয়ায় এমন এক অভিনেত্রী রয়েছেন যিনি কিনা ছোট থেকে তাঁর ছেলেকে শক্ত হাতে মানুষ করেছেন। তিনি হলেন অঞ্জনা বসু।
এই অভিনেত্রী সম্প্রতি এক ইন্টারভিউতে কড়া হাতে ছেলে শাসন করা নিয়ে নিজের বক্তব্য রেখেছেন। আর, তারপরেই শুরু হয়ে গেছে সমালোচনার বন্যা। এই অভিনেত্রীকে এখন দেখা যাচ্ছে 'কুসুম' ধারাবাহিকে। এই গল্পতেও তিনি দুই সন্তানের মা। আর, ধারাবাহিকের গল্পকে কেন্দ্র করেই সন্তানকে মানুষ করার প্রসঙ্গ উঠে আসে। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর নিজের মতামত নিয়ে যে এত সমালোচনা হবে তা বুঝতেই পারেননি। তবে, অভিনেত্রীর সন্তান মানুষ করার পদ্ধতিকে ‘টক্সিক পেরেন্টিং’-এর তকমা দিয়েছে নেটবাসীর একাংশ।
এই মন্তব্যটা কি অভিনেত্রী পড়েছেন? সাক্ষাৎকারী এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন, সবটাই পড়েছেন। এবারেও স্পষ্টভাবে অভিনেত্রী জানালেন, কে কীভাবে তাঁদের সন্তানকে মানুষ করছেন সেটা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি কোনো আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তো আর সাক্ষাৎকার দিতে যায়নি। আজকালকার দিনে, সমাজের চারিদিকে একটু চোখ দিলেই দেখতে পাওয়া যাবে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ, শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু লেখেন। এমনকি শোনা যায় যে, এখনকার বাবা-মায়েরা এই সবকিছুর জেরে সন্তানদের স্বাধীনভাবে মানুষ করতে পারে না।
এরপর অভিনেত্রী আরও বললেন, কারোর কোনো কথার উত্তর দিতে তিনি রাজি নন। যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে চেনেন তাঁরা জানেন তিনি ঠিক কতটা আহ্লাদ দিয়ে ছেলেকে বড়ো করে তুলেছে। রাস্তার কোন মানুষ কি আলটপকা কথা বলল, তাতে কিছুই যায় আসে না, বললেন অঞ্জনা। অভিনেত্রীর ছেলে এখন বছর ২৫-এর, পড়াশোনার সূত্রে এখন থাকে বিদেশে। কলকাতায় থাকাকালীন ছেলে সবসময়তেই মায়ের কথা শুনে চলত, এই সবকিছুই অঞ্জনা জানিয়েছেন নিজে মুখেই। তবে, অবশেষে সমাজ মাধ্যমের নানা মন্তব্য নিয়ে বললেন, তিনি তো বলেননি যে তাঁর মতন করে সন্তান মানুষ করতে হবে। তাই, তাঁর ছেলের বড়ো হওয়া নিয়ে কেউ মন্তব্য করুন সেটা তিনি চাননা।