Calcutta Television Network

পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়...

হিন্দুধর্মের তিন প্রধান দেবতা — ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা-র মন্দির ভারতে প্রায় নেই বললেই চলে। তবুও রাজস্থানের মরুপ্রান্তরে, অজমের জেলার অন্তর্গত পুষ্কর নামের ছোট্ট শহরে রয়েছে একমাত্র বিখ্যাত ব্রহ্মা মন্দির, যেখানে তিনি মূল দেবতা হিসেবে পূজিত হন।

By : Calcutta Television Network | Updated at : 01-08-2025 14:44:04

https://cms.calcuttatelevisionnetwork.in/ctvn-gallery/main_image/Screenshot 2025-08-01 134341_2.png
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 1 / 9
হিন্দু ধর্মে ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টির দেবতা। তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন, এমনটাই বিশ্বাস বহু পুরাণ ও শাস্ত্রে। যেখানে বিষ্ণু ও শিবের হাজার হাজার মন্দির ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানে ব্রহ্মার পুজো একেবারেই বিরল। গোটা ভারতবর্ষে তাঁর যে কয়েকটি মন্দির আছে, তার মধ্যে একমাত্র সর্বজনমান্য এবং প্রধান মন্দিরটি হল রাজস্থানের পুষ্করে অবস্থিত।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 2 / 9
রাজস্থানের অজমের জেলা থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে ছোট্ট শহর পুষ্কর। এখানেই রয়েছে সেই প্রাচীন ব্রহ্মা মন্দির, যা ইতিহাস, পুরাণ এবং জনশ্রুতির মিশেলে তৈরি এক বিরল ধর্মীয় স্থাপত্য। এই মন্দিরেই চার মুখওয়ালা ব্রহ্মার মূর্তি প্রতিষ্ঠিত, যেটি অত্যন্ত বিরল এবং অলৌকিক বলেই মানা হয়।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 3 / 9
পুরাণ অনুসারে, একবার ব্রহ্মা পুষ্করে যজ্ঞ শুরু করেন অসুর বজ্রনাভকে বধ করার জন্য। যজ্ঞে অংশ নিতে স্ত্রী সরস্বতী-র অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি আসতে দেরি করায়, ব্রহ্মা ক্রুদ্ধ হয়ে গায়ত্রী নামের এক স্থানীয় কন্যাকে বিবাহ করে যজ্ঞ সম্পন্ন করেন।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 4 / 9
এতেই অপমানিত হয়ে দেবী সরস্বতী ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন, 'ভবিষ্যতে কেউ তোমার পূজা করবে না, তুমি অপূজ্য হয়ে থাকবে!' এই অভিশাপের ফলেই, আজ ব্রহ্মার পুজো এত বিরল। কিন্তু যেহেতু পুষ্করে যজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছিল, সেই জায়গাটিতে তাঁর পুজো করা যায় — এটিই ব্যতিক্রম।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 5 / 9
মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে মূলত ১৪শ শতকে রাজা আদিত্য চৌহানের পৃষ্ঠপোষকতায়। মূল কাঠামোতে মার্বেল এবং গোলাপি পাথর ব্যবহার হয়েছে। ব্রহ্মার মূর্তিটি চার মুখ-সহ, যা চার বেদ এবং চার দিকের প্রতীক। তাঁর সঙ্গে গায়ত্রী দেবীর মূর্তিও রয়েছে।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 6 / 9
প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমা-য় এখানে বিশাল পুষ্কর মেলা হয়, যেটি রাজস্থান তথা ভারতের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 7 / 9
মন্দিরের পাশে রয়েছে পুষ্কর সরোবর, যেখানে ৫২টি ঘাটে তীর্থযাত্রীরা স্নান করেন। বিশ্বাস, এখানে স্নান করলে জন্মজন্মান্তরের পাপ মোচন হয়। হিন্দু ধর্মে এই সরোবরের উল্লেখ রয়েছে মহাভারত ও পদ্মপুরাণে।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 8 / 9
ভারতে আরও কিছু স্থানে ছোটখাটো ব্রহ্মা মন্দির রয়েছে। যেমন- তামিলনাড়ুর ত্রিচি-তে, কেরালার কিছু গ্রামাঞ্চলে, গোয়ার একাধিক লোকাচারে, তবে পুষ্করের মতো সম্মান বা মহাত্ম্য কোথাও নেই।
পৃথিবীর স্রষ্টা, কিন্তু পূজিত নন! পুষ্করে ব্রহ্মার অভিশপ্ত আশ্রয়... 9 / 9
হিন্দুধর্মের দর্শনে, ব্রহ্মা সৃষ্টির দায়ে নিয়োজিত, কিন্তু রক্ষা বা সংহারের ভূমিকা নেই। মানুষ সাধারণত যাঁদের পুজো করে, তাঁদের কাছে চায় রক্ষা, ফল, মুক্তি। সেই কারণে ব্রহ্মার পুজো লোকায়ত রীতিতে স্থান পায়নি। তাঁর সৃষ্টির কাজ এককালীন — তাই তিনিই সৃষ্টিকর্তা হয়েও একা, নিঃসঙ্গ, উপেক্ষিত।
শেয়ার করুন

আরও জানুন