1 / 6
ভাবুন আপনার কর্মব্যস্ত জীবনের, অতিরিক্ত চাপে আপনি বিধ্বস্ত। ভালো থাকতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না। সেইসময় এমন কেউ এলো আপনার জীবনে , যে ভরিয়ে দিলো আপনাকে ভালোবাসায়। তার অপলক চাহনি, পায়ে পায়ে ঘোরা, আপনাকে দেখেই লাফিয়ে ওঠা - সব কিছুই কেমন জুড়ে গেলো আপনার সঙ্গে, অদ্ভুতভাবে । আপনার খারাপ লাগা বা ভালো লাগার অংশ হয়ে গেলো সেও । নিঃশব্দেও এভাবে মনে জায়গা করে যে নিতে পারে, একমাত্র পোষ্যরাই। মার্জার হোক বা সারমেয়, আপনার পোষ্যের জন্য আপনি ঠিক কি অনুভব করেন সেটা পোষ্যপ্রেমী না হলে বোঝা দায়। তাই লোকে যতই বলুক আদিখ্যেতা, আপনি জানেন যে পোষ্যরা নির্বাক হলেও তারা আপনার সঙ্গে কথা বলে, ' সহানুভূতির ভাষায়' .
2 / 6
আজকের গল্পের হিরো অর্থাৎ সারমেয় 'আলোকার' গল্পটাও ঠিক এমনই। ১০০ দিনের এক শান্তিযাত্রায় ভারতভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকের একটি দল। রাস্তায় বাকি অপরিচিতদের মতো, এই কুকুরটির সঙ্গেও দেখা হয়ে গিয়েছিলো তাদের। তারপর থেকে এই সন্ন্যাসীদের দল যেখানেই যায়, অলোকাও পিছু নেয় তাদের। গলায় কোনো বাঁধন পোড়ানো নেই তাঁর। এই দলের কেউ যে তার পূর্বপরিচিত - তেমনটিও নয়। তবুও এই সন্ন্যাসীদের তীর্থযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ সেও।
3 / 6
সম্প্রতি আমেরিকায় চলা ১২০ দিনের শান্তিযাত্রারও অন্যতম সদস্য এই অলোকা। ২০২৫ এর ২৬ সে অক্টোবর, টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অবস্থিত হুয়ং দাও বিপাসনা ভাবনা কেন্দ্র থেকে এই ভিক্ষুকদল শুরু করেন পদব্রজে আমেরিকাভ্রমণ।উদ্দেশ্য, যুদ্ধবিধস্ত পরিস্থিতির মধ্যে সবাইকে শান্তির বার্তা দেওয়া। আর এই মহান যাত্রার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু 'সারমেয় অলোকা'। ৪ বছরের, ইন্ডিয়ান প্যারিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত এই কুকুরটি এখন ওই বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাকিদের মতো সেও নিয়ম মেনে প্রার্থনায় বসে, দলের সঙ্গে সারাদিন হাঁটে, খাওয়া দাওয়া করে, আর বিশ্রামের সময় হলে বাকিদের সঙ্গেই ঘুমিয়ে পরে বিছানায়। এইভাবেই সে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেলেছে ।
4 / 6
অনেকেই মনে করেন হয়তো খাবারের লোভেই সারমেয়টি বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দলে যোগ দিয়েছে। কিন্তু ভাবুন তো, রাস্তায় কত স্ট্রে ডগদেরই তো আমরা খাবার দি, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ তো নিজের জায়গা ছেড়ে পাড়ি দেয়না আমাদের সঙ্গে, দূরদেশে, অজানা লক্ষ্যে।
5 / 6
এই ঘটনা আমাদের ফের মনে করিয়ে দেয় 'হাচির' কথা। জাপানের সেই বিখ্যাত কুকুরটি । যে তার মালিকের ফেরার আসায় ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করে গেছে শিভুয়া স্টেশনে। মনে পরে ' দ্য ডগ পারপাস' সিনেমাটির সেই বিখ্যাত উক্তিটিও -' আমরা পোষ্যদের নোই বরং পোষ্যরাই আমাদের বেছে নেয়'। অলোকার গল্প যেন এই কথাই প্রমান করে বার বার।
6 / 6
তাই অলোকা শুধুই কুকুর নয়, অলোকা পশুরূপে মানবতার প্রতীক, শান্তির প্রতীক।
শেয়ার করুন