1 / 6
শিবের হাতে ধরা ডমরু শুধু বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি সৃষ্টি ও প্রলয়ের প্রতীক। পুরাণ মতে, শিব যখন তাণ্ডব করেন, তখন ডমরুর শব্দে জন্ম নেয় সৃষ্টির প্রথম বর্ণ- 'অক্ষর'। বলা হয়, এই ধ্বনি থেকেই ঋষিদের কানে আসে সংস্কৃত ব্যাকরণের সূত্র।
2 / 6
স্থানীয়দের মতে, গ্রীষ্ম বা শীত—দুই ঋতুতেই রাত গভীর হলে পাহাড়ের বুক থেকে ভেসে আসে ডমরুর মতো তালযুক্ত ধ্বনি। কারও কাছে তা বজ্রপাতের প্রতিধ্বনি, কারও কাছে হিমবাহের ভাঙনের শব্দ। কিন্তু বহু ভক্তের বিশ্বাস—এ শিবের ডমরু, যা তিনি নিজে বাজান, যেন ভক্তদের মনে করিয়ে দেন, 'আমি আছি'।
3 / 6
এক বৃদ্ধ সাধু, নিত্যানন্দ গিরি মহারাজ, যিনি প্রায় ৩০ বছর কেদারনাথে কাটিয়েছেন, তিনি বলেন, 'শরীর জমে আসে, নিশ্বাসে বরফ ঢোকে… কিন্তু হঠাৎ মনে হয় শিব স্বয়ং ডমরু বাজাচ্ছেন। সেই ছন্দে ধ্যান অন্য স্তরে পৌঁছে যায়।'
4 / 6
আর এক তীর্থযাত্রী জানান—রাত ২টার দিকে তিনি মন্দিরের সিঁড়িতে বসে ছিলেন, তখন দূরে পাহাড় থেকে ভেসে আসে ঢম্-ঢম্-ঢম্… যেন কারও অদৃশ্য হাত ডমরু বাজাচ্ছে।
5 / 6
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিমালয়ের বরফের চাপ ও পাহাড়ের ভিতরে সৃষ্ট কম্পন মাঝে মাঝে তালযুক্ত শব্দ তৈরি করে, যা ডমরুর মতো শোনায়। আবার তুষারধসের প্রতিধ্বনি পাহাড়ে প্রতিফলিত হয়ে সেই শব্দকে রহস্যময় করে তোলে।
6 / 6
বিজ্ঞান তার ব্যাখ্যা দিক বা না দিক, বহু ভক্তের কাছে এই ডমরুর ধ্বনি আধ্যাত্মিক সত্য। কেদারনাথের রাতের সেই অদ্ভুত সুর যেন ভক্তিকে নতুন মাত্রা দেয়, আর মনে করিয়ে দেয়-মহাদেব কেবল পুরাণের দেবতা নন, তিনি এখনো হিমালয়ের নিস্তব্ধতায় শ্বাস নিচ্ছেন, ডমরু বাজাচ্ছেন, তাণ্ডবের ছন্দে মহাবিশ্বের গতি ঠিক রাখছেন।
শেয়ার করুন