1 / 6
রাখি হল ভাই-বোনেদের সম্পর্কের উদযাপনের অন্যতম এক উৎসব। তবে, এখনকার দিনে এই রাখি বন্ধন উৎসব আর কেবল ভাই-বোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই উৎসবকে অনেকে পৌরাণিক কাহিনীতে ব্যাখ্যা করে, আবার কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের উদাহরণ তুলেও ঐতিহাসিক ঘটনা বলে ব্যাখ্যা করে। রাখি পূর্ণিমা বা রাখি বন্ধন উৎসবের ইতিহাস বহু পুরনো এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী, ঐতিহাসিক ঘটনা এবং সামাজিক তাৎপর্য। এটি কেবল ভাই-বোনের সম্পর্ক নয়, বরং পারস্পরিক সুরক্ষার এক পবিত্র বন্ধনের প্রতীক।
2 / 6
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, কেউ কেউ মনে করেন বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দেবরাজ ইন্দ্র শঙ্কিত ছিলেন। সেই সময় তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী ভগবান বিষ্ণুর কাছ থেকে একটি রক্ষাসূত্র (রাখি) নিয়ে ইন্দ্রের হাতে বেঁধে দেন। এই রাখির শক্তিতেই ইন্দ্র যুদ্ধজয় করেন—এটাই রাখি পূর্ণিমার আদি রূপ বলে মনে করা হয়।
3 / 6
আবার, অনেকে মনে করেন কৃষ্ণের আঙুল কেটে যাওয়াতে দ্রৌপদী নিজের শাড়ি ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। সেই কারণে কৃষ্ণ প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি সবসময় দ্রৌপদীকে রক্ষা করবেন। এই ঘটনা ভক্তি ও আত্মিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং এটাকেও অনেকে রাখির আদিরূপ বলে মনে করেন।
4 / 6
দেবী লক্ষ্মী এক দরিদ্র ব্রাহ্মণীর বেশে রাজা বলির হাতে রাখি বেঁধে তাঁকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেন। বলি তখন বিষ্ণুকে স্বর্গে ফিরে যেতে দেন। তাই, এই কাহিনিও ভ্রাতৃত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীক বলে মনে করেন।
5 / 6
অন্যদিকে, আবার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে গেলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখি বন্ধন উৎসব প্রচলন করেন। তিনি হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা দিতে রাখি বাঁধার আয়োজন করেন। কবিগুরু হাজার হাজার মানুষকে আহ্বান করেন, যাতে তাঁরা একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে বিভাজন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতি রক্ষার জন্য রাখি বন্ধন উৎসবের ডাক দেন। এই উৎসবের মাধ্যমে তিনি সমগ্র বাংলাকে একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন।
6 / 6
এই দিনে যম ও অশুভ শক্তির প্রভাব বেশি বলে মনে করা হয়, তাই রাখি বাঁধা হয় যা রক্ষার প্রতীক হিসেবে উদযাপন করা হয়।
শেয়ার করুন